বাংলাদেশের প্রথম মুঘল সমাধি স্থাপত্য
বাংলাদেশে নির্মিত প্রথম মুঘল সমাধি স্থাপত্যটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের ফিরোজপুর গ্রামে অবস্থিত সূফী শাহ নিয়ামতউল্লাহ (রহঃ) এর সমাধি।
তিনি ষোড়শ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ একজন সূফী সাধক ছিলেন। তিনি কাদেরিয়া তরিকার একজন সুন্নি মতাদর্শী সূফী সাধক ছিলেন। তিনি অত্যন্ত ধার্মিক ও আধ্যাত্মিক ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পেজ সূচিপত্রঃ শাহ নিয়ামতউল্লাহ (রহঃ) এর জীবনী
- শাহ নিয়ামতউল্লাহ (রহঃ) এর পরিচয়
- শাহ নিয়ামতউল্লাহ (রহঃ) এর কর্মজীবন
- শাহ নিয়ামতউল্লাহ (রহঃ) এর জন্ম ও মৃত্যু
- বাংলার সুবেদার শাহজাদা শাহ সুজার বায়াত গ্রহণ
- সূফী শাহ নিয়ামতউল্লাহ (রহঃ) ওরশ অনুষ্ঠান
- লেখকের মন্তব্য
শাহ নিয়ামতউল্লাহ (রহঃ) এর পরিচয়
শাহ নিয়ামতউল্লাহ (রহঃ) এর প্রকৃত নাম সৈয়দ জামালুদ্দীন মোহাম্মদ এবং পিতা সৈয়দ আতাউল্লাহ ও পিতামহ সৈয়দ মোশাররফ হোসেন। জানা যায় সম্রাট আকবরের শাসন আমলে তাঁর পূর্বপুরুষেরা (মক্কার বনু আসাদ গোত্রের) পারস্যের হানসি অঞ্চল থেকে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে ভারতবর্ষের কার্নালে এসে বসতি স্থাপন করেন।
শাহ নিয়ামতউল্লাহ (রহঃ) এর কর্মজীবন
শাহ নিয়ামতউল্লাহ (রহঃ) কর্মজীবনের শুরুতে তিনি মুঘল সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আধ্যাত্মিক সাধনায় নিজেকে পরিপূর্ণভাবে উৎসর্গ করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর চাকরি ত্যাগ করেন এবং দরবেশ মোহাম্মদ শাহের অনুসারী হওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি হায়দ্রাবাদে যান এবং সেখানে তিনি প্রায় ১৬ বছর নির্জনে ধ্যান করেন। এরপর তিনি বিভিন্ন স্থান পরিভ্রমণ করে হজ পালন পালনের উদ্দেশ্যে মক্কায় যান এবং হজ পালন শেষে ভারতবর্ষে ফিরে আসেন।
শাহ নিয়ামতউল্লাহ (রহঃ) এর জন্ম ও মৃত্যু
শাহ নিয়ামতউল্লাহ (রহঃ) এর জন্ম এবং মৃত্যুর সঠিক তারিখ জানা না গেলেও ইতিহাসবিদদের মতে ১৫৬৫ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৫৭০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী কোনো এক সময়ে ভারতের কার্নালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৬৬৪ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৬৬৯ খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী কোনো এক সময়ে ফিরোজপুরে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
বাংলার সুবেদার শাহজাদা শাহ সুজার বায়াত গ্রহণ
বাংলার সুবেদার শাহজাদা শাহ সুজা ছিলেন মোগল সম্রাট শাহজাহান ও মমতাজের দ্বিতীয় ছেলে। সুবেদার শাহ সুজার শাসনামলে (১৬৩৯ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৬৬০ খ্রিস্টাব্দ) সূফী শাহ নিয়ামতউল্লাহ (রহঃ) ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে ভারতের ঝাড়খণ্ডে শাহ সুজার রাজমহলে এসে উপস্থিত হন, শাহ সুজা তাঁর আগমনের সংবাদ জানতে পেরে অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে অভ্যর্থনা জানান এবং তাঁর হাতে বায়াত গ্রহণ করেন।
আরও পড়ুনঃ বাংলার সুবেদার শাহ সুজার আরাকান রাজার হাতে করুন মৃত্যু
পরে সূফী শাহ নিয়ামতউল্লাহ (রহঃ) রাজমহল ত্যাগ করে ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে গৌড়ের উপকণ্ঠে ফিরোজপুরে আসেন এবং এখানে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করেন।
সূফী শাহ নিয়ামতউল্লাহ (রহঃ) ওরশ অনুষ্ঠান
প্রতিবছর ভাদ্র মাসে মাসের শেষ শুক্রবার সূফী শাহ নিয়ামতউল্লাহ (রহঃ) এর সমাধি বা মাজারে (ফিরোজপুরে) ওরশ অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রতিবছর পহেলা মহররম তাঁর জন্ম এবং মৃত্যুদিন হিসেবে স্মরণ করে এখানে মিলাদ মাহফিল এবং ইসলামিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
লেখকের মন্তব্য
বাংলাদেশে ইসলাম ধর্ম প্রচারের ক্ষেত্রে সূফী শাহ নিয়ামতউল্লাহ (রহঃ) এর অবদান অনস্বীকার্য। ফারসি ভাষায় নিয়মাতউল্লাকে 'বাহার-ই-উলুম' অর্থ বিদ্যার সাগর বলা হয়, ধারণা করা হয় তাঁর কোরআন ও ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে অধিক জ্ঞান থাকায় তাঁকে এই উপাধি দেওয়া হয়েছে। তিনি পবিত্র কুরআনের একটি ফারসি সংস্করণ তৈরি করেন যার নামকরণ করেছিলেন তাফসির-ই-জাহাঙ্গীরী। তিনি সাধারণ জীবনযাপনে অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। তাই রাজমহল ত্যাগ করে সন্ন্যাসীর ন্যায় ভ্রমণ শেষে ফিরোজপুরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তাঁর শিষ্য শাহজাদা শাহ সুজা সেখানে একটি তাহখানা নির্মাণ করেন। তাঁর দরবার পরিচালনার জন্য সম্রাট শাহজাহান ৪০০ বিঘা জমি প্রদান করেন এবং সম্রাট আওরঙ্গজেবের সময় ১৬৬৫ খ্রিস্টাব্দে পাঁচ হাজার রুপি প্রদান করেন। তাঁর জ্ঞান সম্পর্কে সাধারণ জনগণের তেমন কোনো ধারণা ছিল না।
.webp)
.webp)
.webp)
বাংলাক্লিপ নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url