কিভাবে বুঝবেন আম রাসায়নিক দিয়ে পাকানো হয়েছে
ফলের রাজা আম তার সুমিষ্ট স্বাদ ও অনন্য মিষ্টি ঘ্রালণর জন্য সারা পৃথিবীর মানুষের অন্তরে জায়গা করে নিয়েছে। আমাদের দেশে মূলত মে মাসের শেষ সপ্তাহ হতে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বাজারে নানা জাতের পাকা আম পাওয়া যায়।
কিন্তু কিছু সংখ্যক অসাধু ব্যবসায়ী অধিক লাভের আশায়, মৌসুম শুরুর আগেই রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আম বাজারে বিক্রি করে থাকে। যা খেলে আমাদের দেহে নানা রোগের আশঙ্কা দেখা দেয়। তাই আজ আমরা এখানে রাসায়নিক মুক্ত আম চেনার উপায় কি তা বিস্তারিত আলোচনা করব।
পেজ সূচিপত্রঃ কিভাবে বুঝবেন আম রাসায়নিক দিয়ে পাকানো হয়েছে
- কিভাবে বুঝবেন আম রাসায়নিক দিয়ে পাকানো হয়েছে
- রং ও খোসা দেখে রাসায়নিক মুক্ত আম চেনার উপায়
- আমের গন্ধ বা ঘ্রাণ থেকে রাসায়নিক মুক্ত আম চেনার উপায়
- পানিতে ডুবিয়ে রাসায়নিক মুক্ত আম চেনার উপায়
- কোন জাতের আম কখন খাবেন
- উপসংহার
কিভাবে বুঝবেন আম রাসায়নিক দিয়ে পাকানো হয়েছে
আমাদের দেশে আমপাকার মৌসুমের আগে যে সকল আম বাজারে পাওয়া যায় তা সবই রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আম বলে আমরা ধারণা করতে পারি, তবে হিমায়িত ও বাহিরের দেশ থেকে আমদানিকৃত আম ব্যতীত। রাসায়নিক বা কার্বাইড দিয়ে পাকানো আম চেনার কিছু সহজ উপায় আছে, যেমন এর রং, ঘ্রাণ, স্বাদ ও গঠন পরীক্ষা করে বোঝা যায় যে, আম রাসায়নিক দিয়ে পাকানো হয়েছে কিনা। নিম্নে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
রং ও খোসা দেখে রাসায়নিক মুক্ত আম চেনার উপায়
সাধারণত অপরিপক্ত আমের বাইরের অংশ সবুজ ও চকচকে হয়ে থাকে, আর এই আম যখন
সঠিক সময়ের আগে গাছ থেকে পেড়ে রাসায়নিক দিয়ে পাকানো হয় তখন আমটি দেখতে অনেক
আকর্ষণীয় ও নিখুঁত হলুদ রং ধারণ করে। তবে এথন আমাদের দেশে ফ্রট
ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম চাষ করা হয়ে থাকে যা দেখতে অনেক
আকর্ষণীয় ও দাগ মুক্ত হয়ে থাকে। তাই ভালো মানের আম খেতে হলে আম পাকার নির্দিষ্ট সময়েই খাওয়া উত্তম।
আমের গন্ধ বা ঘ্রাণ থেকে রাসায়নিক মুক্ত আম চেনার উপায়
প্রাকৃতিকভাবে পাকা আমের একটি সুমিষ্ট ও আকর্ষণীয় ঘ্রাণ থাকে, যেটা অনুভব করে মন ভরে যায়। কিন্তু যে সকল আম রাসায়নিক (কার্বাইড) দিয়ে পাকানো হয়ে থাকে,
সে সকল আমের বোটার কাছে নাক দিয়ে ঘ্রান নিলে কোন মিষ্টি ঘ্রাণ পাওয়া যায় না শুধু ঝাঁঝালো একটি গন্ধ পাওয়া যায়।
পানিতে ডুবিয়ে রাসায়নিক মুক্ত আম চেনার উপায়
পানিতে ডুবিয়ে রাসায়নিক মুক্ত আম চেনার উপায়টি হচ্ছে, প্রাকৃতিকভাবে পাকা আম চেনার সবচাইতে সহজ পদ্ধতি। এজন্য প্রথমে আপনাকে একটি পাত্র ভর্তি করে পানি নিতে হবে এরপর এই পাত্রের মধ্যে আম ছেড়ে দিতে হবে,
যদি দেখেন আমটি পানিতে ডুবে গেছে তাহলে বুঝবেন আমটি প্রাকৃতিকভাবে পাকা, কারণ রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আমের ভেতরের শাস হালকা ও ফাপা হয় থাকে যা পানিতে না ডুবে ভেসে থাকে।
আরও পড়ুনঃ কাঁচা কাঁঠালের সুস্বাদু রেসিপি
কোন জাতের আম কখন খাবেন
বাংলাদেশ সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রতিবছর পরিপক্ক ও বিষমুক্ত আম বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করতে একটি ম্যাংগো ক্যালেন্ডার বা আম পাড়ার সঠিক সময় নির্ধারণ করে থাকে। অঞ্চল ও আমের জাতভেদে সময়সূচী নিম্নে দেওয়া হল, যা আপনাকে সঠিক সময়ে সঠিক আমটি খাওয়ার জন্য সাহায্য করবে।
| আমের জাতের নাম | রাজশাহী | নওগাঁ | চুয়াডাঙ্গা | সাতক্ষীরা |
|---|---|---|---|---|
| গুটি/স্থানীয় | ১৫ মে | ২২ মে | ১৩ মে | ৫ মে |
| গোপালভোগ | ২২ মে | ৩০ মে | ১৩ মে | - |
| ক্ষীরসাপাত/হিমসাগর | ৩০ মে | ২ জুন | ১৩-২২ মে | ১৫ মে |
| ল্যাংড়া | ১০ জুন | ১০ জুন | ২৮ মে | ২৭ মে |
| আম্রপালি | ১৫ জুন | ১৫ জুন | ৫ জুন | ৫ জুন |
| ফজলি | ১৫ জুন | ২৫ জুন | ১৫ জুন | - |
| হাড়িভাঙ্গা | - | ১০ জুন | ২০ জুন | - |
| ব্যানানা ম্যাংগো | ১০ জুন | ২৫ জুন | ২২ জুন | - |
| আশ্বিনা/বারি-৪ | ৫-১০ জুলাই | ৫ জুলাই | ৩০ জুন | - |
| গৌড়মতি | ১৫ জুলাই | ৫ জুলাই | ৩১ জুলাই | - |
| কাটিমন | সারাবছর | ৫ জুলাই | ৫ জুলাই | - |



বাংলাক্লিপ নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url