ডলার রিসিভ করার জন্য Payoneer অ্যাকাউনাট কিবাবে খুলব
পেওনিয়ার (Payoneer) বিশ্বব্যাপী ফ্রিল্যান্সারদের জন্য একটি
শীর্ষস্থানীয় পেমেন্ট গেটওয়ে, যা আন্তর্জাতিক লেনদেন পরিচালনার
জন্য একটি নিরাপদ ও কার্যকর মাধ্যম। Payoneer এর মাধ্যমে বিশ্বের
২০০টিরও বেশি দেশে এবং ১৫০টিরও বেশি মুদ্রায় লেনদেন করার
সম্ভব। যা, ই-কমার্স, ফ্রিল্যান্সিং এবং আন্তর্জাতিক
বাণিজ্যের মতো শিল্প গুলোর জন্য বিশ্বব্যাপী ব্যাংকিংয়ের এক অনন্য উপায়।
Payoneer এর মাধ্যমে ই-কমার্স বিক্রেতারা বিশ্বজুড়ে
গ্রাহকদের কাছ থেকে পেমেন্ট সংগ্রহ করতে পারে, অন্যদিকে ফ্রিল্যান্সাররা
আপওয়ার্ক, অ্যামাজন এবং ফাইভারের মত গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে সহজে
পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারেন। প্রতিযোগিতামূলক ফি, দ্রুত লেনদেন এবং বিভিন্ন
শক্তিশালী ফিচারের কারনে Payoneer আন্তঃসীমান লেনদেনকে গ্রাহকদের কাছে
সহজ করে তুলেছে। আজ আমরা জানবো কিভাবে ডলার রিসিভ করার জন্য Payoneer
অ্যাকাউন্ট খুলব।
পেজ সূচিপত্রঃ ডলার রিসিভ করার জন্য Payoneer অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম
- ডলার রিসিভ করার জন্য Payoneer অ্যাকাউন্ট কিভাবে খুলব
- কেন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য Payoneer সেরা সমাধান
- Payoneer অ্যাকাউন্ট খুলতে কি লাগবে
- Payoneer ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন করার নিয়ম
- ব্যক্তিগত তথ্য ও নাম-ঠিকানা প্রদান
- কন্টাক্ট ডিটেইলস এবং সিকিউরিটি সেটিংস
- স্থানীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যুক্ত করার সঠিক পদ্ধতি
- অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন এবং স্মার্ট কার্ড পাওয়ার উপায়
- পেমেন্ট গ্রহণ এবং উত্তোলনের নিয়ম
- সাধারণ সমস্যা এবং সেগুলোর সমাধান
- উপসংহার
- লেখকের মন্তব্য
ডলার রিসিভ করার জন্য Payoneer অ্যাকাউন্ট কিভাবে খুলব
বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে অনলাইন ইনকাম বা ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে বৈদেশিক
মুদ্রা অর্জন করা অনেক সহজ হয়ে গেছে, তবে উপার্জিত অর্থ নিরাপদে নিজ দেশে আনার জন্য একটি নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম প্রয়োজন। এই সমস্যার সমাধানে
জন্য প্রতিটি ফ্রিল্যান্সার জানতে চাই, কিভাবে ডলার রিসিভ করার জন্য
Payoneer অ্যাকাউন্ট খুলবে। Payoneer হল একটি গ্লোবাল পেমেন্ট
প্ল্যাটফর্ম যা আপনাকে বিশ্বের যেকোন প্রান্ত থেকে ডলার, ইউরো বা পাউন্ড গ্রহন করার সুবিধা দেয়। এটি মূলত একটি ভার্চুয়াল ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মত কাজ
করে, যার মাধ্যমে আপনি সরাসরি স্থানীয় ব্যাংকে টাকা নিয়ে আসতে
পারবেন। ডলার গ্রহন করার জন্য Payoneer অ্যাকাউন্ট কিভাবে খুলব এই
প্রশ্নটি যারা নতুন কাজ শুরু করেছেন তাদের মনে বারবার আসে। কারণ সঠিক নিয়ম জানা না থাকলে অনেক সময় অ্যাকাউন্ট অনুমোদন হতে সমস্যা হয়। Payoneer এর
মাধ্যমে আপনি মার্কেটপ্লেস যেমন আপওয়ার্ক, ফাইভার বা সরাসরি
ক্লায়েন্ট থেকে পেমেন্ট নিতে পারবেন। এই প্লাটফর্মটি অত্যন্ত নিরাপদ
এবং ট্রানজেকশন ফি অন্যান্য পেমেন্ট গেটওয়ের তুলনায় অনেক কম। তাই আপনি
যদি একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হতে চান, তবে এই অ্যাকাউন্টটি আপনার পেশাদার
জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকবে।
কেন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য Payoneer সেরা সমাধান
ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের পেমেন্ট গেটওয়ে হিসাবে Payoneer এর
জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। ডলার রিসিভ করার জন্য Payoneer অ্যাকাউন্ট কিভাবে
খুলব এবং কেন এটি ব্যবহার করব তার পেছনে অনেকগুলো কারণ
রয়েছে। প্রথমত, এটিতে বাংলাদেশ সরাসরি লোকাল ব্যাংক একাউন্টে টাকা
পাঠানোর সুবিধা রয়েছে। আপনি ডাচ-বাংলা ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক বা অন্য
যেকোনো ব্যাংকের মাধ্যমে খুব দ্রুত টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। এছাড়া
Payoneer এর কারেন্সি কনভারশন রেট বেশ ভালো, যা আপনার টাকার পরিমাণ
বাড়াতে সাহায্য করবে।
ডলার রিসিভ করার জন্য Payoneer অ্যাকাউন্ট খুললে আপনি একটি প্রিপেইড
মাস্টারকার্ড পাবেন। এই কার্ড দিয়ে আপনি অনলাইনে কেনাকাটা ফেসবুক
বুস্টিং বা ডোমেইন-হোস্টিং কিনতে পারবেন। বিশ্বের ২০০টিরও বেশি
দেশে এই কার্ড সাপোর্ট করে। এছাড়া Payoneer এর ২৪ ঘন্টা কাস্টমার
সেবা পাবেন। ফ্রিল্যান্সারদের জন্য এটি একটি অল-ইন-ওয়ান সমাধান হিসেবে
কাজ করে এবং তাদের আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করে তোলে।
Payoneer অ্যাকাউন্ট খুলতে কি লাগবে
যেকোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মত Payoneer ও তাদের গ্রাহকদের নিরাপত্তা
নিশ্চিত করতে কিছু নির্দিষ্ট ডকুমেন্ট বা তথ্য চেয়ে থাকে। তাই ডলার রিসিভ করার জন্য
Payoneer অ্যাকাউন্ট কিভাবে খুলব তা জানার আগে, আপনার হাতের কাছে প্রয়োজনীয়
তথ্যগুলো রাখা জরুরী। প্রথমত, আপনার একটি বৈধ ই-মেইল অ্যাকাউন্ট থাকতে
হবে যা আপনি নিয়মিত ব্যবহার করেন। কারণ আপনার অ্যাকাউন্টের সকল আপডেট এবং
ভেরিফিকেশন কোড এই ইমেইলে আসবে। দ্বিতীয়ত, আপনার একটি সচল মোবাইল
নাম্বার প্রয়োজন হবে যা দিয়ে আপনি টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন সেটআপ করতে
পারেন।
ডলার রিসিভ করার জন্য Payoneer অ্যাকাউন্ট কিভাবে খুলব এই প্রক্রিয়ায়
আপনার ন্যাশনাল আইডি কার্ড(NID), পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের স্ক্যান
কপি প্রয়োজন হবে। আপনার বয়স অবশ্যই ১৮ বছরের বেশি হতে হবে। এছাড়া
একটি লোকাল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক, কারণ রেজিস্ট্রেশনের সময়
ব্যাংকের তথ্য প্রদান করতে হবে। আপনার ব্যাংকের চেক বই দেখে অ্যাকাউন্টের নাম,
নাম্বার, এবং সুইফট কোড (SWIFT Code) সঠিকভাবে সংগ্রহ করে
রাখুন। এই প্রস্তুতি গুলো থাকলে আপনি মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই
রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে পারবেন।
Payoneer ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন করার নিয়ম
এখন আমরা মূল প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করব। ডলার রিসিভ করার জন্য Payoneer
অ্যাকাউন্ট কিভাবে খুলব এর প্রথম ধাপ হলো, তাদের অফিসিয়াল পোটালে
প্রবেশ করা। প্রথমে আপনার ব্রাউজারে www.payoneer.com লিখে Enter
দিন। ওয়েবসাইটটি লোড হওয়ার পর আপনি 'Register' বা 'Sign Up' লেখা
একটি বাটন দেখতে পাবেন। এটিতে ক্লিক করলে আপনাকে একটি নতুন পেজে নিয়ে
যাবে, এখানে আপনার কাজের ধরন বা পেশা জানতে চাওয়া হবে।
এই পর্যায়ে আপনাকে সঠিক অপশনটি বেছে নিতে হবে। আপনি যদি ফ্রিল্যান্সার
হন তবে Freelancer or SBM অপশনটি সিলেক্ট করুন। এরপর আপনাকে
জিজ্ঞেস করা হবে আপনি কেন এই অ্যাকাউন্টটি খুলতে চাচ্ছেন। এখানে Get paid
by international clients or freelance marketplaces অপশনটি বেছে
নিন। এটি করার পর আপনার সামনে রেজিস্ট্রেশন ফর্মটি চলে আসবে। মনে
রাখবেন প্রতিটি তথ্য নির্ভুলভাবে দেওয়া জরুরী যাতে, পরবর্তীতে ভেরিফিকেশনে
কোন সমস্যা না হয়।
ব্যক্তিগত তথ্য ও নাম-ঠিকানা প্রদান
রেজিস্ট্রেশন ফরমের প্রথম অংশটি হল আপনার ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান। এই
পর্যায়ে আপনার নাম এবং ই-মেইল অ্যাকাউন্ট দিতে হবে। আপনার নাম অবশ্যই
এনআইডি কার্ড বা পাসপোর্ট এর সাথে হুবহু মিল রেখে লিখতে হবে। কোন বানান
ভুল হলে পরবর্তীতে অ্যাকাউন্ট ব্লক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ফাস্ট নেম এবং
লাস্ট নেম আলাদা আলাদা বক্সে লিখুন এবং আপনার জন্ম তারিখটি ক্যালেন্ডার থেকে
সিলেক্ট করুন।
ডলার রিসিভ করার জন্য Payoneer অ্যাকাউন্ট কিভাবে খুলব এই ধাপে আপনার
বর্তমান ঠিকানা প্রদান করতে হবে। আপনার ঠিকানার ঘরে গ্রাম,
ডাকঘর, থানা এবং জেলার নাম পরিষ্কারভাবে লিখুন। পোস্টাল কোড বা জিপ
কোডটি আপনার এলাকার পোস্ট অফিস অনুযায়ী দিন। ঠিকানার তথ্যগুলো
ইংরেজিতে লিখবেন। অনেক সময় ঠিকানার প্রমাণের জন্য ইউটিলিটি বিলের কপি
চাওয়া হতে পারে, তাই আপনার ইটিলিটি বিলের কাগজে যেভাবে ঠিকানা
আছে, সেভাবে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। সব তথ্য দেওয়া হয়ে গেলে
'Next' বাটনের ক্লিক করে পরের ধাপে যান।
কন্টাক্ট ডিটেইলস এবং সিকিউরিটি সেটিংস
তৃতীয় ধাপে আপনাকে আপনার কন্টাক্ট ইনফরমেশন এবং সিকিউরিটি সেটিংস ঠিক
করতে হবে। এই অংশে আপনার মোবাইল নম্বরটি ভেরিফাই করতে হবে। আপনার সচল
মোবাইল নম্বরটি দেওয়ার পর 'Send Code' বাটনে ক্লিক করুন। আপনার মোবাইলে
একটি ওটিপি (OTP) কোড আসবে, সেটি নির্দিষ্ট বক্সে লিখে ভেরিফাই করে নিন।
এরপর আপনাকে একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরি করতে হবে যা কেউ সহজে অনুমান
করতে পারবে না।
এবার সিকিউরিটি প্রশ্ন সেটআপ করুন, একটি প্রশ্ন সিলেক্ট করুন এবং
সেটির উত্তর দিন যা আপনার মনে থাকবে। ভবিষ্যতে পাসওয়ার্ড ভুলে
গেলে বা অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে, এই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে
আপনি অ্যাকাউন্ট ফিরে পেতে পারেন। এছাড়া এই ধাপেই আপনাকে এনআইডি
কার্ড বা পাসপোর্ট এর নম্বরটি ইনপুট দিতে হবে। আইডেন্টি ভেরিফিকেশনের
জন্য এটি একটি অপরিহার্য পদক্ষেপ। সবশেষে নিচের ক্যাপচাটি পূরণ করে Next
বাটনে ক্লিক করুন।
স্থানীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যুক্ত করার সঠিক পদ্ধতি
চতুর্থ এবং শেষ ধাপে আপনাকে আপনার স্থানীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য দিতে হবে।
ডলার গ্রহন করার জন্য Payoneer অ্যাকাউন্ট খোলার এই ধাপটি খুবই
গুরুত্বপূর্ণ। এখানে আপনার দেশ, মুদ্রা, ব্যাংকের নাম, শাখার নাম,
অ্যাকাউন্ট নাম্বার এবং সুইফট কোড সঠিক ভাবে দিতে হবে। তবে মনে রাখবেন,
আপনার স্থানীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নামের সাথে অবশ্যই আপনার Payoneer
অ্যাকাউন্টের নামের সাথে মিল থাকতে হবে। যদি নামের অমিল থাকে তবে
পেমেন্ট রিজেক্ট হতে পারে।
আপনাকে মুদ্রা হিসাবে BDT নির্ধারণ করতে হবে যদি আপনি বাংলাদেশী
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন। এরপর নিচের চেকবক্স গুলোতে টিক চিহ্ন
দিয়ে তাদের শর্তাবলীতে সম্মতি প্রদান করুন। সব তথ্য একবার ভালোভাবে দেখে Submit
বাটনে ক্লিক করুন। Submit করার পর আপনার স্কিনে একটি কনফার্মেশন মেসেজ
আসবে যে আপনার আবেদনটি পর্যালোচনার জন্য জমা নেওয়া হয়েছে। সাধারণত দুই
থেকে তিন কর্মদিবসের মধ্য আপনার অ্যাকাউন্টের অনুমোদন হয়ে যাবে।
অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন এবং স্মার্ট কার্ড পাওয়ার উপায়
অ্যাকাউন্ট খোলার পর পরবর্তী কাজ হল ভেরিফিকেশন সম্পন্ন
করা। অ্যাকাউন্টের অনুমোদন পাওয়ার পর আপনার ই-মেইলে একটি লিঙ্ক আসবে, সেখানে
ক্লিক করে আপনার এনআইডি কার্ডের ছবি আপলোড করতে হবে। মনে রাখবেন ছবির
কোয়ালিটি যেন ভালো হয় এবং চার কোন যেন স্পষ্ট দেখা যায়। ভেরিফিকেশন
পেন্ডিং থাকা অবস্থায় আপনি পেমেন্ট রিসিভ করতে পারলেও তা উত্তোলন করতে
সমস্যা হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশে ড্রপশিপিং বিজনেস শুরু করার সম্পূর্ণ গাইড
এই কাজগুলো সঠিকভাবে সম্পন্ন করার পর আপনি একটি ফিজিক্যাল মাস্টার কার্ডের
জন্য আবেদন করতে পারবেন। হবে এর জন্য আপনার অ্যাকাউন্টে অন্তত ১০০ ডলার
ট্রানজেকশন হতে হবে। কার্ডটি আপনার ঠিকানায় আসতে সাধারণত দুই থেকে চার
সপ্তাহ সময় লাগে। এই কার্ডটি হাতে পাওয়ার পর আপনি বিশ্বের যেকোনো
মাস্টার কার্ড লোগো যুক্ত এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে পারবেন। মাস্টার কার্ডটি
আ্যাক্টিভেট করার জন্য Payoneer পোর্টালে গিয়ে কার্ড নম্বর এবং পিন
সেটআপ করে নিতে হবে।
পেমেন্ট গ্রহণ এবং উত্তোলনের নিয়ম
অ্যাকাউন্ট রেডি হয়ে গেলে আপনি এখন ডলার রিসিভ করার জন্য
প্রস্তুত। আপনি যদি ফাইভারে কাজ করেন, তবে সেখানে পেমেন্ট
মেথড হিসেবে Payoneer সিলেক্ট করে আপনার ইমেইলটি কানেক্ট করে
দিন। এছাড়া আপনি সরাসরি ক্লাইন্টকে Request a Paymen অপশনের মাধ্যমে
ইনভয়েস পাঠাতে পারেন। ক্লায়েন্ট তার ক্রেডিট কার্ড বা ব্যাংক
অ্যাকাউন্ট দিয়ে আপনাকে পেমেন্ট করতে পারবে।
ডলার রিসিভ করার জন্য Payoneer অ্যাকাউন্ট কিভাবে খুলব এই প্রক্রিয়ায় টাকা
উত্তোলনের জন্য 'Withdraw to Bank' অপশনটি ব্যবহার করুন। আপনার
সংযুক্ত লোকাল ব্যাংকটি সিলেক্ট করে কত ডলার তুলতে চান তা লিখে সাবমিট করুন।
সাধারণত ২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে টাকা আপনার ব্যাংকে চলে আসবে।
Payoneer থেকে ব্যাংকে টাকা পাঠালে প্রতি ট্রানজেকশনে নির্দিষ্ট পরিমাণ
ফি কাটা হয়। তবে বড় অংকের টাকা তুললে এটি খুব একটা গায়ে লাগেনা এ ছাড়া
আপনি চাইলে এক Payoneer অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য Payoneer
অ্যাকাউন্টে ফ্রিতে টাকা পাঠাতে পারেন।
সাধারন সমস্যা এবং সেগুলোর সমাধান
Payoneer ব্যবহার করতে গিয়ে অনেকে কিছু সাধারন সমস্যায় পড়বেন, যেমন অনেক সময়
দেখা যায় অ্যাকাউন্ট এপ্রুভ হচ্ছে না বা ভেরিফিকেশন রিজেক্ট হচ্ছে। এর
প্রধান কারণ হতে পারে ঝাপসা ছবি বা ভুল তথ্য প্রদান, এমন হলে ঘাবড়ে না গিয়ে
তাদের কাস্টমার সাপোর্টে কথা বলুন, তারা আপনাকে সমস্যার সমাধান বলে দেবে।
অনেক সময় ব্রাউজারের কুকিজের কারণে লগইন করতে সমস্যা হয়, সে ক্ষেত্রে
ব্রাউজার ক্যাশ ক্লিয়ার করে চেষ্টা করুন।
আরও পড়ুনঃ Shopify স্টোরে প্রোডাক্ট যোগ করার ধাপ
Payoneer অ্যাকাউন্টের পেমেন্ট পেন্ডিং থাকা আরেকটি সাধারণ সমস্যা। এটি
সাধারণত সিকিউরিটি চেক এর জন্য হয়ে থাকে। ক্লায়েন্ট পেমেন্ট করার পর
Payoneer কিছু তথ্য যাচাই করে পেমেন্ট রিলিজ করে। এছাড়া যদি আপনার
কার্ড হারিয়ে যায়, তবে সাথে সাথে অ্যাপ থেকে কার্ডটি ব্লক করে দিন এবং নতুন
কার্ডের জন্য আবেদন করুন। মনে রাখবেন কখনোই আপনার
অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড বা পিন অন্য কাউকে দিবেন না। নিয়মিত
পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা আপনার অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা বাড়াবে।
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, আন্তর্জাতিক লেনদেনের জন্য Payoneer একটি
আশীর্বাদস্বরূপ। ডলার রিসিভ করার জন্য Payoneer অ্যাকাউন্ট কিভাবে খুলব এই
গাইডাটি অনুসরণ করলে আপনি কোন ঝামেলা ছাড়াই একটি প্রফেশনাল
অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারবেন। এটি আপনাকে শুধু ডলার রিসিভ করতেই সাহায্য
করবে না, বরং আপনার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারকে আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।
সঠিক তথ্য এবং স্বচ্ছতার সাথে অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করলে আপনি দীর্ঘকাল এই
সেবাটি ভোগ করতে পারবেন।
ডলার রিসিভ করার জন্য Payoneer অ্যাকাউন্ট কিভাবে খুলব এই বিষয়টি
নিয়ে আপনার যদি আরও কোন প্রশ্ন থাকে, তবে নিচে কমেন্ট করতে পারেন।
ফ্রিল্যান্সিং জগতের এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে আপনাকে আধুনিক সব টুলস
সম্পর্কে আপডেট থাকতে হবে। Payoneer সেই আধুনিক টুলস গুলোর মধ্যে
অন্যতম। আজই আপনার আ্যাকাউন্ট খুলে ফেলুন এবং বিশ্বব্যাপী আপনার কাজের পরিধি
বাড়িয়ে দিন। শুভকামনা রইল আপনার সফল ফ্রিল্যান্সিং যার তার জন্য।
লেখকের মন্তব্য
ডলার রিসিভ করার জন্য Payoneer অ্যাকাউন্ট কিভাবে খুলব এই গাইডটি তৈরি
করার মূল উদ্দেশ্য ছিল আমাদের দেশের উদীয়মান ফ্রিল্যান্সারদের একটি সঠিক এবং
নির্ভরযোগ্য পথ দেখানো। আমি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি যে, অনেক মেধাবি
তরুণ শুধুমাত্র সঠিক পেমেন্টের মেথড না জানার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে কাজ
করতে ভয় পায়। Payoneer এই বাধা দূর করতে একটি বিপ্লবিক ভূমিকা পালন করছে। আমি
আশা করি, এই বিস্তারিত আলোচনাটি পড়ার পর আপনার মনে ‘’ডলার রিসিভ করার জন্য
Payoneer অ্যাকাউন্ট কিভাবে খুলব’’ এই নিয়ে আর কোন দ্বিধা থাকবে না। মনে
রাখবেন অনলাইন ক্যারিয়ারে সফল হওয়ার জন্য ধৈর্য এবং সঠিক তথ্যের কোন
বিকল্প নেই। আপনাদের সকলের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল।





বাংলাক্লিপ নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url